তাঁবু ভাঙা নিয়ে শুরু হয় ভারত-চীন সংঘর্ষ!

0
40

পিনিউজ ডেস্ক: বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর অঞ্চলের লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই দেশের বেশ কিছু সৈনিক নিহত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্র পর্যায়ে বেড়েছে চরম উত্তেজনা। লাদাখ উপত্যকায় টহলে বেড়িয়ে চীন সেনাদের তাঁবু ভেঙে দেয় ভারতের জোয়ানরা। এ নিয়ে দুই দেশের সৈনিকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, ৬ জুনের সামরিক বৈঠকের পর চীন সেনাদের দখলকার জায়গা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কাজ খতিয়ে দেখতে শহিদ কর্নেল বিএল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যায় ভারতীয় বাহিনী। এসময় তার সঙ্গে ছিল প্রায় ১০০ জন জওয়ান।

খবরে বলা হয়, শতাধিক ভারতীয় বাহিনী গালোয়ান উপত্যকা এলাকা গিয়ে দেখেন, সেখানে দিব্যি তাঁবুতে গেড়ে বসে আছেন চীন সেনারা। চীনাদের বের করে সেই তাঁবু ভাঙতে শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় কিছু তাঁবুতে। এতেই বিপদ বুঝে কাঠের তক্তা, লোহার রড, কাটা তার জড়ানো বাটামসহ আরও ভারতীয় বাহিনী জড়ো হয় গালোয়ান এলাকায়। শুরু হয় দুইপক্ষের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ।

ডয়চে ভেলে’কে ভারতীয় সেনার এক আহত জওয়ান বলেন, মাঝ রাতে পেট্রোলিংয়ের সময় বিহার রেজিমেন্ট দেখতে পায় গালওয়ান নদীর পশ্চিম প্রান্তে লাইন অফ কন্ট্রোল পার করে পেট্রোল পয়েন্ট ১৪ তে টেন্ট তৈরি করেছে চীনের পিপলস আর্মি।

প্রায় চার দশক পর আবারও লাদাখ উপত্যকা রক্তাক্ত হওয়ার কারণ খুঁজতে বসেন ভারতীয় সাবেক সেনাকর্মীরা। তারা বলছেন, চোখে চোখ রেখে কথা বলা সহ্য করতে পারেনি চীনারা। তাই কিছুটা পাল্টা দিতে গিয়ে এই সংঘর্ষ বাঁধিয়েছেন তারা।

এনডিটিভি জানায়, দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষ হয়েছে সামরিক অস্ত্রের বদলে বাটাম, রড, কাঁটাতার জড়ানো তক্তা দিয়ে। এসব কিছু দিয়ে হামলা চালায় একে অপরের উপর। প্রায় ছয়ঘণ্টা ধরে চলে সেই সংঘর্ষ। সেই হামলায় অনেকে গালওয়ান নদীতে পড়ে ভেসে যান। অনেকে আহত হলেও, হিমাঙ্কের নীচে ঠাণ্ডা থাকার কারণে মৃত্যু হয়েছে। ভারতের দাবি, তাদের মোট শহীদ হয়েছেন ২০ জন। আর এদিকে চীনের দাবি, তাদের হতাহতের সংখ্যা ৪৫।