ভালবাসার আরেক নাম গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ

0
678
আজাদ জামাল:
বর্তমান করোনা পরিস্থিতে নজিরবিহীন মানবতার পরিচয় দিয়ে, দেশ-বিদেশের সব মানুষের হৃদয়ে অন্যরকম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্হান করে নিয়েছে “গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এটি একটি আধ্যাত্মিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে “গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ” চট্টগ্রাম সহ সারাদেশে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের সিরিকোট শরীফ থেকে আগত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার ৪০তম আওলাদ, আলে রাসুল দ. হযরত আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রহ.) কর্তৃক ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের নেতৃত্বে এবং আনজুমানের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতি বছর ৯ই রবিউল আউয়াল ঢাকায় এবং ১২ই রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জুলুসের আয়োজন হয়।
চট্টগ্রামে বাড়ি হওয়ার সুবাদে, সেই ছোটবেলা থেকেই এই সংগঠনের কার্যক্রম দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। ঢাকায় আসার পর থেকে এই সংগঠনের আর তেমন খবর রাখার সুযোগ হয় না কিন্তু এই সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব শ্রদ্ধাভাজন এডভোকেট মুসাহেব উদ্দিন বখতেয়ার সাহেবকে স্কুল জীবন থেকেই চিনি। উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা করার সময় ডাকসু নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি উনাকে পছন্দ করি এবং উনার অনেক বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মৃত্যুবরন করা মৃতদেহ নিয়ে সারাবিশ্বে চলছে এক অমানবিকতা। করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়ার পর ঐ মৃতদেহ ফেলে পালিয়ে যাচ্ছেন স্ত্রী-সন্তান সহ নিকট আত্মীয় স্বজন।
সারা বিশ্বের এখন একই চিত্র, বাংলাদেশে এমনও ঘটনা ঘটেছে যে মৃত ব্যক্তিকে নিজ এলাকায় কবর দিতে বাঁধা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যকোথাও নিয়ে দাফন করা হচ্ছে। ঠিক এই ক্রান্তিকালে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে দেশের আধ্যাত্মিক সংগঠন গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ। মৃতদেহ গোসল, কাফন, জানাজা এবং দাফনের কাজ করে দেশ-বিদেশের মানুষের হৃদয়ে স্হান করে নিয়েছে গাউছিয়া কমিটি। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের কর্ণধারের কাফন-দাফন করে গাউছিয়া কমিটি সারা দেশের মানুষের নজরে আসে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মুক্তিযোদ্ধা এক বৌদ্ধধর্মাবলম্বীর মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে গাউছিয়া কমিটি। ওখানে উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মীয় গুরুর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে দাহ করে অনন্যা এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কমিটির মানুষেরা।
বর্তমানে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে যেখানেই মানুষ মারা যাচ্ছেন, সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন গাউছিয়া কমিটি। কোন সরকারি অনুদান বা পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই, ঐ কমিটির ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে মেডিকেল সুরক্ষা নিশ্চিত করে উনারা এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যায়। আশার কথা হলো, এখনো মরদেহ দাফন কাফনের সাথে জড়িত কেউ আক্রান্ত হননি। দেশ-বিদেশের অনেক বিত্তবান গাউছিয়া কমিটির দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পিপি-অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করে দিয়েছে অনেকেই। শুনেছি চউকের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব এম.এ সালাম সাহেবের ওয়েল গ্রুপ ও পটিয়ার কৃতি সন্তান দক্ষিণজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মুহাম্মদ নাছির উদ্দিনও গাউছিয়া কমিটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। চট্টগ্রামে সহ সারাদেশে অনেক ইসলামী দলসহ অনেক স্বেচ্ছাসেবী দল ও নামে বেনামে বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে। উনারা বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে তথাকথিত জিহাদের ডাক দেন। বড়বড় অনেক আলেম ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে মানুষকে অনেক হেদায়েত করেন কিন্তু এই দুঃসময়ে চোখে পড়ার মতো কোন ইসলামী দল বা অন্য কোন সংগঠন মৃতদেহ গোসল,কাফন, জানাযা ও দাফনের কাজে এগিয়ে আসেন নি। তবে ঢাকা এবং চাঁদপুরে ইসলামী আন্দোলনের একাংশ মৃতদেহ কাফন-দাফন কাজ করে যাচ্ছেন বলে শোনা গেছে। আমি গাউসিয়া কমিটিসহ যারা এ মহান মানবতার কাজে এগিয়ে এসেছেন সকলকে সাধুবাদ জানাই।  বিশেষ করে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি।
লেখক: ব্যাংকার, সংগঠক ও সমাজসেবক