সারাদেশে ২০ বিচারক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

0
56

পিনিউজ ডেস্ক:

ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালনা ও দায়িত্ব পালনের মধ্যে সারা দেশে নিম্ন আদালতে এ পর্যন্ত ২০ জন বিচারক কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে আছেন আরও ৬ বিচারক।

আর সর্বোচ্চ আদালতের ২৪ কর্মচারীসহ মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ জন আদালত কর্মী। এর মধ্যে ২৪ জন সুপ্রিম কোর্টের, বাকি ৫৯ জন দেশের বিভিন্ন আদালতের।

শনিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মাদারীপুর জেলা জজ আদালতের জারীকারক মো. কাউসার এবং শুক্রবার নওগাঁ জেলা জজ আদালতের অফিস সহায়ক মহিউদ্দিন মোহনের মৃত্যু হয়েছে।

এ দুজনের কোভিড পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ফলাফল জানা যায়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২২ মে সর্বপ্রথম নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ শাহাজাহান কবির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং একই দিনে মুন্সিগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট বেগম রোকেয়া রহমানও আক্রান্ত হন। বর্তমানে তারা দুজন সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরেছেন।

এই মুহূর্তে ঢাকার সিএমএইচে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফেরদৌস আহমেদ। তাকে প্লাজমা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ এর বিচারক বেগম শামীম আহমেদ।

এছাড়া জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রুস্তম আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপতালে চিকিৎসাধীন।’

এই পাঁচ বিচারক বাদে আরও ১৫ জন বিচারক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র সাইফুর রহমান।

আক্রান্ত বিচারক ও কর্মচারীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা জজদের সুপ্রিম কোর্ট থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আক্রান্তদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সময় সময় তা প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে জানানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাইফুর রহমান।

কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের চিকিৎসার বিষয়ে তৎপর থাকার জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রধান করে গত ১১ জুন পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি।

এছাড়াও দেশের অদস্তন আদালতের বিচারকদের কোভিড চিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়।