স্বর্ণ ও রূপার নতুন দাম নির্ধারণ

0
60

পিনিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) দেশে স্বর্ণ ও রূপার নতুন দাম করে নির্ধারণ করেছে।

সোমবার (২২ জুন) সমিতির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে প্রতি গ্রাম স্বর্ণের মূল্য ২২ ক্যাঃ ৫ হাজার ৯৯০টাকা, ২১ ক্যাঃ ৫ হাজার ৭২০ টাকা, ১৮ ক্যাঃ ৪ হাজার ৯৭০ টাকা এবং সনাতন ৪ হাজার ৮৫ টাকা। এছাড়া রূপার দাম প্রতি গ্রাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে করোনার মহামারি পরিস্থিতিতে ব্যাপক দরপতন মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। গত এক সপ্তাহ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় এক শতাংশ বেড়েছে। এতে লোকসানে স্বর্ণ বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার স্বর্ণের নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১৪৫৪ ডলার। এরপর করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬০ ডলারে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই দাম বাড়ার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়।

এছাড়া, গত ফেব্রুয়ারিতে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৬১ হাজার ৫২৭ টাকায় উঠে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫৯ হাজার ১৯৪ এবং ১৮ ক্যারেটের ৫৪ হাজার ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয় ৪১ হাজার ৪০৭ টাকা।

তবে মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়। এক ধাক্কায় দাম কমে প্রতি আউন্স ১৪৬৯ ডলারে নেমে আসে। এ প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানো হয়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সে সময় ভরিতে স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে ৬০ হাজার ৩৬১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫৮ হাজার ২৮ এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫৩ হাজার ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ৪০ হাজার ২৪১ টাকা।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২৭৩ ডলার বা ১৯ শতাংশ।

এদিকে বাংলাদেশে স্বর্ণ ব্যবসার উপর সেই অর্থে সরকারের এখনো কোন নিয়ন্ত্রণ নেই বলে অভিযোগ আছে। দেশে কী পরিমাণে স্বর্ণ রয়েছে তার কোন সঠিক হিসেবও তাদের কাছে নেই।

বাংলাদেশে সরকার সম্প্রতি একটি স্বর্ণ নীতিমালা করেছে। অপ্রদর্শিত স্বর্ণকে বৈধ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণের ডিলার নিয়োগ দিয়ে স্বর্ণ আমদানির কথাও বলা হচ্ছিল। সেসব বিষয়ে যদিও খুব একটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে তো আগেও বেড়েছে। কিন্তু এখন তারা দামের সামঞ্জস্য করতে হচ্ছে বলছে কেন?