এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

0
78

পিনিউজ ডেস্ক:

দুটি মডেলের মেশিন যেসব এটিএম বুথে রয়েছে সেসব এটিএম বুথকে টার্গেট করে অনলাইন থেকে মেশিনগুলোর চাবি সংগ্রহ করে। পরে ম্যালওয়ার সফটওয়্যার সমৃদ্ধ পেনড্রাইভ সংযুক্ত ইউএসবি হাবপোর্ট এটিএম মেশিনে প্রবেশ করানো হয়।

ম্যালওয়ার সফটওয়্যারটি উইন্ডোজে দেখা গেলে বাহির থেকে ওয়ারলেস মিনি কিবোর্ডের মাধ্যমে সুপারভাইজার প্যানেলকে নিয়ন্ত্রণ করে কমান্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়।

এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি করা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতারের পর বুধবার (২৪ জু্লাই) দুপুরে ডবলমুরিং থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মো. ফারুক উল হক।

গ্রেফতার দুই আসামি হলো- মেহেরপুর জেলার গাংনি থানার হেমায়েতপুর এলাকার ইয়াছ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম (৩৪) ও রাউজান থানার নোয়াপাড়া এলাকার হাজী মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন মনির (৩০)।

মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ঢাকার নসরুদ্দীন রোডের মাটি কাটার বাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং মহিউদ্দিন মনির সদরঘাট থানার রাজ হোটেলের মোড়ের রুহুল আমিন বিল্ডিংয়ে বসবাস করতেন।

এদের শরীফুল ইসলাম এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি চক্রের মূলহোতা বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মো. ফারুক উল হক।

মঙ্গলবার আগ্রাবাদ মিডল্যান্ড ব্যাংকের সামনে থেকে ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেনের নেতৃত্বে এসআই অর্নব বড়ুয়াসহ একটি টিম দুইজনকে আটক করে।

তাদের কাছ থেকে পেনড্রাইভ, কিবোর্ড, সেন্সরযুক্ত ইউএসবি হ্যাব, মোবাইল ফোন, ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ সংযুক্ত এটিএম ক্লোন কার্ড, অস্ত্রসহ বেশকিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া চাবিসহ আরও বেশ কিছু এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেন বলেন, শরীফুল ইসলাম শুরুতে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করতেন। পরে তিনি এটিএম কার্ড জালিয়াতি করেন। সবশেষ তিনি বুথে কন্ট্রোল নেওয়ার মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন।

এসআই অর্নব বড়ুয়া বলেন, শরীফুল ইসলাম ২০১৩ সালে সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০১৮ সালেও তিনি একই অপরাধে গ্রেফতার হন। গ্রেফতার হলেও তিনি জামিনে বের হয়ে একই কাজ করে আসছিলেন এতদিন ধরে।

অর্নব বড়ুয়া বলেন, শরীফুল ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া বঙ্গবন্ধু রোড়ো পূবালী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। ১৬ নভেম্বর কুমিল্লা কান্দিরপাড় পূবালী ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রামে চকবাজার পূবালী ব্যাংকের কলেজ রোড শাখার বুথ থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। একই দিন ডবলমুরিং থানাধীন চৌমুহনী ফারুক চেম্বারের নিচে পূবালী ব্যাংকের বুথ থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

শরীফুল একজন পেশাদার চোর। এটিএম বুথে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তার প্রধান কাজ। যোগ করেন অর্নব বড়ুয়া।

ডবলমুরিং থানায় ব্রিফিংয়ে সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) শ্রীমা চাকমা, ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।