৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামে পবিত্র জশনে জুলুছ

0
38

পিনউজ ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামে এবার ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুছ না করার ঘোষণা দেওয়া হলেও বুধবার রাতে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে জুলুছের আয়োজক আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া। জশনে জুলুসের আয়োজক সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের মিলাদুন্নবীতেও তারা যথারীতি জুলুছ র‌্যালি বের করবে। এ ব্যাপারে মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাথমিক অনুমতিও মিলেছে। তবে জুলুছ হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সংক্ষিপ্ত আকারে। এক ঘন্টা সমযের মধ্যে শেষ হবে র‌্যালি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দরবারে ক্বাদেরীয়া আলিয়া সাজ্জাদানশীন রাহনুমায়ে শরীয়ত ও পীরে তরিকত আওলাদে রাসুল দ. আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (ম.জি.আ.) এবারের জুলুছে থাকছেন না। তিনি বাংলাদেশে আসতে না পারায় এবং পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় দুদিন আগে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিযে জুলুছ না করার ঘোষণা দিয়েছিল আয়োজকেরা। আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.জি. আ.)’র নেতৃত্বে ঈদে মিলাদুন্নবীর এই জুলুছে ৫০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম হয়।

আনজুমানে রহমানিয়ার সহসভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহসিন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে জুলুছ করার অনুমতি পাওয়া গেছে। তাই সংক্ষিপ্তকারে আগামী শুক্রবার যথারীতি ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)’র জুলুছ বের হবে। তবে এক ঘন্টার মধ্যে র‌্যালি শেষ করে জামেয়া আহমদিয়া সংলগ্ন জুলুছ মাঠে মিলাদ ও জুমা আদায়ের মাধ্যমে বাকী কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।বৃহস্পতিবার জুলুছের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলােইহি ওয়াসাল্লামার ৪০ তম আওলাদ আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (র.) প্রবর্তিত এই জশনে জুলুছ ইতিমধ্যে পৃথিবীর বৃহত্তম জুলুছ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে প্রথম চালু হওয়া জুলুছ এখন সারা বিশ্বে ইসলামী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। পিতার ধারাবাহিকতায় কাদেরীয়া আলিয়া বর্তমান সাজ্জাদানশী আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহর নেতৃত্বে নগরীর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে জুলুছ শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে আবার এই মাঠে এসে শেষ হয়। চট্টগ্রামের এই জুলুছে প্রতি বছর ৫০ লাখের বেশি মানুষ  যোগ দিয়ে জিকির, মিলাদ ও দরুদ পাঠের মধ্য দিয়ে নবীর শুভাগমনের আনন্দ উদযাপন করে থাকেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও একইভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে জুলুছ র্যাপলি বের হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানিয়েছেন,  আনজুমানে রহমানিয়ার পক্ষ থেকে রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে। সংক্ষিপ্ত আকারে করার শর্তে অনুমতি দেওয়ার চিন্তা রয়েছে সিএমপির।