ইসলামী বিষয়ে অনবিজ্ঞ বক্তাদের মনগড়া বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব!

0
304
ফাতিহার বৈঠক নাকি কুসংস্কার!
কারো মৃত্যু পরবর্তী ওয়ারিশগণ বসে ফাতিহার জন্য পরামর্শ সভা করা মুলত আল্লাহর হুকুমের বাস্তবায়ণ করার শামিল!কোনভাবেই এটা কুসংস্কার নয়৷আল্লাহ ইরশাদ করেন وشاورهم فى الامر,হে নবী আপনি তাদের সঙ্গে যে কোন নেক কাজে পরামর্শ সভা করুন ৷এ আলোকে কাজটি সুন্নাতে নববী এবং সুন্নাতে সাহাবার অনুসরনও বটে ৷
এছাড়া সাধ্যানুসারে মালী অংশগ্রহণ(participation) বা দশ-বিশ হাজার ইত্যাদি চাঁদা দেয়াও প্রকারান্তরে কুরআনের নির্দেশনার বাস্তবায়ন করা ৷ ইরশাদ
হয়েছে, ,وتعاونوا على البر والتقوى. তোমরা নেক কাজে পারষ্পরিক সহযোগিতা করতে থাকো ৷ এসব কাজে একজন অন্যজন থেকে বেশি দেবার প্রতিযোগিতা করাও কুরআন মাজীদের হুকুমের তা”মীল فاستبقوا الخيرات. তোমরা নেককাজে কমপিটিশান করতে থাকো ৷বুঝা গেল এটাও আল্লাহ নির্দেশিত অন্যতম কল্যণমূখী পারিবারিক/সামাজিক ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ ৷ যা কখনোই কুসংস্কার অথবা মনগড়া চাপিয়ে দেয়া অপসংস্কৃতি নয়৷ বরং আল্লাহ ও রাসুল প্রদর্শিত মুস্তাহসান কাজ ৷ মনে রাখবেন যেসব কাজের ভিত্তি বা উৎস উসূলে আরবাআর কোথাও পাওয়া যায়না এবং তা গণমূখী কিংবা কল্যাণমূখীও নয় বরং দীন,সমাজ,সংস্কৃতি ও পরিবার ব্যবস্থাকে কলঙ্খিত ও ধ্বংস করে,সেসব অপসংস্কৃতির বিরোদ্ধে বলা/দমন করা/ঘৃনা করা উচিত কিন্তু যেসব কাজের ভিত্তি রয়েছে,শরীয়ত সমর্থিত, মানবতার কল্যাণ বয়ে আনে,ইহজগত ও পরজগতে উপকার সমৃদ্ধ সেসব কাজের বিরোধিতা করা এবং না পড়ে/না বুঝে মনগড়া ফাতওয়ার বুলি উড়ানো চরম গুমরাহী-ভ্রষ্টতা এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে হাদ্দে কুফুর পর্যন্ত চলে যায় ৷অতএব যে বা যারা নিজেকে সংস্কারবাদী প্রমানের নেশায় ইসলামের এ মহান কাজগুলোকে কুসংস্কার ফতওয়া দিয়েছেন সত্বর তওবা করে নিন ৷
উল্লেখ্য ফাতিহা করা মানে সবচেয়ে উত্তম আমলের আয়োজন করা ৷ কারণ ফাতিহার মাধ্যমে অন্যের মুখে খাবার তোলে দেয়ার মত মহাপূণ্যের কাজ সমাধা করা হয় ৷নবীজী আক্বা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কাছে আরজ করা হয়েছে اي الاسلام خير ইসলামে উত্তম কাজ কোনটি? তিনি বললেন تطعم الطعام অন্যকে খাওয়ানো ৷
সুতরাং সাবধানতা জরুরী ৷ আল্লাহ পাক বুঝার তাওফীক দিন ৷ সুন্নি অঙ্গনে বাতিল মতবাদ প্রচার থেকে রক্ষা করুন ৷আমীন ৷
লিখক: সৈয়্যদ আবু নওশাদ নঈমী আশরাফী
রাহাতিয়া দরবার শরীফ,রাঙ্গুনিয়া,চট্টগ্রাম৷