হেফাজতে ‘সংকট’ সৃষ্টি করে ফায়দা নিচ্ছে সরকার: ফখরুল

0
113

পিনিউজ ডেস্ক:

হেফাজতে ইসলামের মধ্যেকার চলমান ‘সংকট’ সরকার ‘ফায়দা’ নেওয়ার জন্য সৃষ্টি করেছে বলে দাবি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।

সোমবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের কমিটি ভেঙে দেয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা পুরো বিষয়টাকে মনে করি যে, আজকে এটা সরকারের সৃষ্টি করা। পুরো ক্রাইসিসটা তৈরি করেছে সরকার, এটি তৈরি করে তারা ফায়দা নিচ্ছে।”

যার ফলে আমরা দেখছি, লকডাউন যেটা করেছে। এর আগেও আমরা বলেছিলাম যে, ইটস এ ক্র্যাকডাউন অন দি অপজিশন। আপনারা দেখেছেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়েছে। যেখানে বিএনপি কোনো মতেই এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত নয়।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “হেফাজতের বিষয়টা আপনার হেফাজতকে জিজ্ঞাসা করলেই ভালো হবে। ওদের ইন্টারন্যাল ব্যাপার- কমিটি ভেঙে দেয়া, কমিটি তৈরি করা-এগুলো তারাই উত্তর দিতে পারবে।”

স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ ব্রাক্ষণবাড়ীয়া ও চট্টগ্রামে সংঘটিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিবাদ করেছি মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে এবং যেটা আমাদের ফান্ডামেন্টাল রাইটস। আজকে এই যে মিথ্যাচার করা হচ্ছে, অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ অবলীলায় তারা কল্পকাহিনী প্রচার করছে।”

বিএনপি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে তিনি আরও বলেন, “বিএনপি ইজ এ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, তারা সাধারণভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার দল, আমরা গেছিও অতীতে বহুবার। আমরা সেইভাবেই কাজ করি, শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করি। এই ধরনের ঘটনার সাথে আমাদেরকে জড়ানোর চেষ্টা করা, শীর্ষ নেতাদেরকে যুক্ত করা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘যাদেরকে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের অভিজ্ঞতায় বলে, তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করে, নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। এটা আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলার বেলায়ও দেখেছি-কোথাও এফআইআরে নাম নেই। তিনটা তদন্ত হয়েছে কোথাও তাকে সম্পৃক্ত করা হয় নাই।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, নতুন করে আইও নিয়োগ করে আসামীকে রিমান্ডে নিয়ে ১২৩ দিন অত্যাচার করে তারপর আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জড়িত করেছে। এটা আরেকটা কৌশল। বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা। কারণ বিএনপি হচ্ছে, তাদের কাছে একমাত্র প্রতিপক্ষ, যারা জনগণকে সংগঠিত করে ক্ষমতায় আসতে পারে নির্বাচনের মাধ্যমে। আজকে সেই কারণে তারা বিএনপিকে নির্মূল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।“