প্রসঙ্গ সিআরবি : রেলওয়ে ডিজির বক্তব্য দুঃখজনক

0
114
শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী :
চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল করার পরিকল্পনা নিয়ে চট্টগ্রামে মারাত্মক অসন্তোষ বিরাজ করছে। আমরা চট্টগ্রামবাসী বলতে চাই এই স্থানটি জনস্বার্থে উন্মুক্ত থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কে বরাদ্দ দিয়েছেন হাসপাতাল নির্মাণ করার জন্য। সিআরবিতে হাসপাতাল প্রসঙ্গে আন্দোলন চলছে। একটি জনপ্রিয় অনলাইন চ্যানেল সিপ্লাস হাসপাতাল নির্মাণ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডি জি (মহাপরিচালক) এর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন “সিআরবি তে হাসপাতাল হবে, বাহিরের লোকের বাধা দেওয়ার কে”।
চট্টগ্রামবাসী কি সিআরবির মালিক? আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন তারা গুরুত্বহীন। আমরা চট্টগ্রামবাসীকে বাইরের লোক বলা বা আমরা চট্টগ্রামবাসী সিআরবির মালিক কিনা জানতে চাওয়া এবং আন্দোলন গুরুত্বহীন প্রকারান্তে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে গুরুত্বহীন বলা মানে চট্টগ্রামের প্রতি অশ্রদ্ধা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা, যা আমাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। স্বাধীনতা-পূর্ব পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী তখন বাঙ্গালীদের আন্দোলনকে এইভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলতো, ইতিহাস সেটাই প্রমাণ করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী “ফারুক-রশিদ” দম্ভ করে অনেক কথা বলেছিল পরিনীতি কি হয়েছে দেশবাসী তা দেখেছে। ১৯৮৮ সালের ২৪শে জানুয়ারি চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা ও জনতাকে হত্যার পর দম্ভোক্তি করেছিল। খুনি রকিবুল হুদার পরিণতি আমরা দেখেছি।
৯০ স্বৈরাচারী এরশাদ চট্টগ্রামের মানুষ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কারফিউ ও গুলির নির্দেশ দিয়েছিল তার ৭ দিন পর ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয় কারাগারে যেতে হয়েছে। সর্বশেষ হেলেনা মহসিনের দম্ভোক্তির পরিণতি আমরা দেখেছি। সিআরবিতে হাসপাতাল বিরোধ চলমান আন্দোলনের সাথে ঐক্যমত পোষন করে বিবৃতি, বক্তৃতা ও মতামত দিয়েছেন সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, বিশিষ্ট নাগরিক এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, প্রবীণ সাংবাদিক আবুল মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমান, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, ডাঃ এ.কিউ.এম সিরাজুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম কাতারের দৈনিক পত্রিকা আজাদীর সম্পাদক বহুল প্রচারিত পত্রিকা পূর্বকোণ, পূর্বদেশ, সুপ্রভাতের সম্পাদক বৃন্দ।প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একুশে পদকপ্রাপ্ত ডক্টর অনুপম সেন, চেম্বার অফ কমার্স, জেলা আইনজীবী সমিতি, সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক দল ছাড়া যুব, শ্রমিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ সর্বস্তরের শ্রেণী পেশার মানুষ। প্রশ্ন হল ডিজি (মহাপরিচালক) বাংলাদেশ রেলওয় বাবু ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার এর কাছে এরা সকলেই গুরুত্বহীন।
এক কথায় চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামবাসী তার কাছে গুরুত্বহীন। মনে রাখতে হবে চট্টগ্রাম বার আউলিয়ার পূর্ণ ভূমি। বাংলাদেশের অনেক সরকার প্রধান রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পূর্বে চট্টগ্রামে এসে মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনের কর্মসূচি আরম্ভ করেন। ডিজি সাহেবের এমন উক্ত বক্তব্যে আমি ব্যথিত দুঃখিত। সরকারের এমন দায়িত্বশীল পদে থেকে এজাতীয় বক্তব্য সরকারের জনপ্রিয়তা কে প্রস্নবিদ্ধ করবে। একজন সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। আমরা যখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করছি তখন অনেক সরকারী কর্মচারী আমাদের আন্দোলনকে দমানোর জন্য স্বৈরচার, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পক্ষ নিয়ে হুকুম দিয়ে আমাদের মিছিলে গুলি, টিয়ারশেল গ্যাস, লাঠিচার্জ করেছে। বাসাবাড়িতে তল্লাশির নামে তছনছ করেছেন। গ্রেপ্তার করেছেন মিছিলে ট্রাক চালিয়ে দিয়েছেন। স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পতন হয়েছে কিন্তু…..।।
প্রশ্ন করি ডিজি সাহেব আপনি বলেছেন চট্টগ্রামবাসী সিআরবি মালিক নয় কথাটি সত্য। আগামীকাল আপনাকে অন্যত্র বদলি করে দিলে আপনি কি সিআরবির মালিকানা দাবি করতে পারবেন???
ক্ষমতা ও ছড়ি হাতে থাকলে অনেক কথা বলা যায়। ক্ষমতা থেকে বা চাকুরী থেকে অবসরের পর ক্ষমতার তাপ বেলুন ছিদ্র হলে যে অবস্থা হয় তেমনি হয়। আমি দেখেছি অনেক দৌদণ্ড প্রতাপশালী সরকারি কর্মকর্তা।
স্বৈরাচারী এরশাদ আমল ও পরবর্তী স্বৈরাচার সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং ২০০৭ সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের নির্যাতন করেছে কারাগারে পাঠিয়েছে অবসরের পর তার ন্যায্য পাওনার জন্য সরকারি অফিসে করনিক এর সামনে অসহায় ভাবে বসে থাকতে। জয় বাংলা।
লেখক, সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রামজেলা আইনজীবী সমিতি।